ভারতীয় অর্থনীতি আবারও প্রমাণ করল যে বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির শক্তি ধরে রাখার ক্ষমতা তার রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI)–র সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে এক বড় ইতিবাচক চিত্র—দেশের অর্থনীতি প্রবেশ করেছে এক “ভরটিউয়াস সাইকেল” বা সদর্থক বৃদ্ধির ধারায়, যেখানে উন্নয়নকে সামনে নিয়ে যাচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতার প্রসার এবং শক্তিশালী ভোগব্যয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুদ্ধ, জ্বালানি-সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ খাতগুলো আশ্চর্যজনক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি—সবখানেই দেখা গেছে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ধারা।
RBI-র মতে, দেশের অর্থনীতিতে এখন একটি ইতিবাচক চক্র কাজ করছে—
এই চক্র যত শক্তিশালী হবে, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি তত স্থায়ী ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে অর্থ বিশেষজ্ঞরা।
ম্যানুফ্যাকচারিং PMI ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক জোনে রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী থেকে স্টার্টআপ—সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়ছে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, গ্রীন এনার্জি ও ডিজিটাল পরিষেবা—সব খাতেই বিস্ফোরক সম্প্রসারণের ইঙ্গিত।
ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী। NPA কমেছে, ঋণ বিতরণ বেড়েছে—যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারত বর্তমানে একটি “উন্নয়ন-সুযোগের জানালা”র মধ্যে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং পরিকাঠামো বিনিয়োগ আগামী কয়েক বছর ধরে প্রবৃদ্ধিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।
RBI-র এই রিপোর্ট নতুন করে আশা জাগিয়েছে যে ভারত কেবল আগামী বছরই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদেও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হবে—এমনই বিশ্বাস বাজার ও বিশেষজ্ঞদের।