শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় দিনের পর দিন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে নকল লটারি বিক্রির চক্র। আশিঘর, নৌকা ঘাট থেকে শুরু করে বাগডোগরা—শহর ও শহরতলির বহু অঞ্চলে রাত-দিন চলছে এই অনৈতিক ব্যবসা। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ, এবং উদ্বিগ্ন স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের দাবি, মূলত রাতের অন্ধকারে বেশি সক্রিয় থাকে এই চক্র। এমন সব এলাকা—যেখানে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম—সেখানে গোপনে চলছে নকল লটারি বিক্রি।
চক্রের সদস্যরা সুযোগসন্ধানী। ভোর কিংবা গভীর রাত—যখন নজরদারি কম—ঠিক তখনই চলে মোটা লেনদেন।
সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন এলাকার বেকার ও শিক্ষিত যুবকেরা।
সুন্দর জীবনের আশা, দ্রুত রোজগারের প্রতিশ্রুতি—এই সব স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের হাতিয়ার বানাচ্ছে নকল লটারি চক্র।
কিন্তু বাস্তবে, টাকা আসার বদলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেক যুবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নকল লটারি চক্রের মূল মাথারা বিহার থেকে এসে শিলিগুড়িতে আস্তানা গেড়েছে।
বাইরের রাজ্য থেকে নকল লটারি এনে শহর ও আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা।
বাস্তবে অন্ধকারে পরিচালিত এই ব্যবসার পিছনে রয়েছে বড় নেটওয়ার্ক—যারা বহু যুবককে ফাঁদে ফেলে কুরিয়ার, ডিস্ট্রিবিউশন ও বিক্রি-এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগায়।
শিলিগুড়ির কেন্দ্রে প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি থাকলেও, শহরের চারপাশের এলাকা—বিশেষত জনবসতি কম এমন জায়গায়—এই নকল লটারির বাজার দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন,
“হাতে একটু টাকা আসবে—এই আশায়ই সর্বনাশ ডেকে আনছেন অনেকেই।”
প্রতিদিন শিলিগুড়িতে চারদিক থেকে মানুষ আসে—ব্যবসা, কাজ ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে।
এই সুযোগে শহরে ঢুকে পড়ছে অসাধু ব্যক্তিরাও।
নকল লটারির পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট-বড় প্রতারণার কাজকর্ম বাড়ছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি নকল লটারি চক্রের ওপর একাধিক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
ফলে অনেকেই বিশ্বাস করছেন—আগের মতো আর সহজে মাথা তুলতে পারবে না এই ব্যবসা।
পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ায় কিছু এলাকায় কার্যকলাপ কমলেও, পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে টানা নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতা জরুরি।