শীতকালে যে মাঠগুলো সোনার মতো আলুর ফসলে ঢেকে থাকে, সেই পরিচিত ছবিটাই যেন হারিয়ে গেছে তুফানগঞ্জ মহকুমার কাশিরডাঙা এলাকায়। মাঠ জুড়ে এখন কেবল বিবর্ণ গাছ, শুকিয়ে যাওয়া পাতা আর কৃষকদের মুখে গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ। অজানা এক রোগের আক্রমণে একের পর এক আলুর ক্ষেত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বহু কৃষকের বহু বছরের অভিজ্ঞতা, যত্ন আর পরিশ্রম—সবই মুহূর্তে ভেস্তে গেছে।
কাশিরডাঙার কৃষক রেজাউল হক এ বছর তাঁর সাত বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। মরশুম ভালো যাবে, এমনটাই আশা ছিল তাঁর। হিসাব অনুযায়ী বিঘা প্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে খরচ হওয়ায় মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু ফলন তুলবার আগেই সব শেষ। রেজাউল হকের কথায়,
“হঠাৎ করেই দেখলাম গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক, ওষুধ—সব দিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই রুখতে পারলাম না। কী রোগ হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
কিন্তু রেজাউলের দুর্দশা একা তাঁর নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশেপাশের গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘারও বেশি জমির আলু একই রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়েছে। বহু পরিবারই এই ফসলের উপর নির্ভরশীল। আলু এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা। তাই এই হঠাৎ ক্ষতিতে পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, কিছুদিন ধরেই গাছের পাতায় অস্বাভাবিক দাগ দেখা যাচ্ছিল। পরে পুরো গাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু সঠিক কারণ কেউই জানেন না। রোগটি ছড়িয়ে পড়ার গতি দেখে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
এ অবস্থায় কৃষকদের একটাই দাবি—
পাশাপাশি তাঁরা চান ভবিষ্যতে যাতে এমন ভয়াবহ রোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তুলে ধরুক সরকারি বিভাগ।
আলুর ফসলের উপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আসবে? সরকার ও কৃষি দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শতাধিক কৃষকের এই বিপর্যয় হয়তো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দিকে এগিয়ে যাবে।