ফের বাড়ছে ডিমের দাম, চিন্তায় সাধারণ পরিবার—বিক্রেতাদের দাবি মৌসুমি চাহিদাই প্রধান কারণ

শীত পড়তেই বাজারে আবারও চড়েছে ডিমের দাম। এতে নাজেহাল সাধারণ গৃহস্থ পরিবার। কারণ অনেকের পক্ষেই নিয়মিত মাছ-মাংস কেনা সম্ভব হয় না অর্থনৈতিক কারণে। ফলে মানুষের কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য প্রোটিন হিসেবে ডিমই ভরসা। কিন্তু সেই ডিমের দামই যখন বাড়তে শুরু করেছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ এলেই ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বরের সময় কেক তৈরির প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। বড়দিন উপলক্ষে কেক বানানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেকারি ও হোটেলে ডিমের ব্যবহার দারুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে দামও স্বাভাবিকভাবে বাড়ে।

অন্যদিকে এই সময় মিলছে বিবাহের মরশুম, সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান, পিকনিক এবং পার্টির সংখ্যা বাড়ে। এসব ক্ষেত্রেও ডিমের ব্যবহার বাড়ে চাহিদা অনুযায়ী। বিক্রেতারা জানিয়েছেন,
“ডিমের দাম এই সময় বাড়ে প্রতি বছরই। শুধু এ বছর নয়, প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দাম বেশি থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আবার ধীরে ধীরে কমে যায়।”

যদিও ডিমের দাম বাড়লেও বিক্রিতে কোনও প্রভাব পড়েনি বলে দাবি বিক্রেতাদের। তাদের কথায়,
“মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই ডিম একটু দামি হলেও মানুষ কিনছে, কারণ তুলনামূলকভাবে এখনো সবচেয়ে সস্তা প্রোটিন ডিমই।”

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতিবার শীত এলেই এমন দামবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন তাঁরা। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াই মূল কারণ। উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও মৌসুমি চাপ সামলাতে না পারায় দাম বাড়ে।

ডিমের দাম শীঘ্রই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে বিক্রেতাদের ধারণা, ফেব্রুয়ারি থেকেই বাজার ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এর আগে পর্যন্ত ভোক্তাদের বাড়তি দামেই ডিম কিনতে হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these