অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে কোনও বাধাই যে অতিক্রম্য—তা আরও একবার প্রমাণ করল বালুরঘাটের কালিকাপুর গ্রামের আদিবাসী ছাত্রী সুস্মিতা পাহান। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪২৮ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়েছে নালন্দা বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রী। স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে গর্বিত করেছে পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও গোটা এলাকাকে।
কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুস্মিতার জীবন ছোট থেকেই সংগ্রামের। মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারায় সে। বাবা শ্যামল পাহানের মৃত্যুর পর থেকেই মা সিজলী পাহান অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালাচ্ছেন। অভাবের সংসারে পড়াশোনার খরচ জোগাতে মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হয় সুস্মিতাকেও।
প্রতিদিন প্রায় ৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কালিকাপুর থেকে নালন্দা বিদ্যাপীঠে যাতায়াত করত সে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর রাতের অন্ধকারে বই নিয়ে বসাই ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। সুস্মিতার ছোট বোন সংগীতা পাহানও একই স্কুলে পড়াশোনা করছে।
ভবিষ্যতে শিক্ষিকা হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায় সুস্মিতা। তবে আর্থিক অনটনের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করা যাবে কি না, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পরিবার।
সুস্মিতা জানায়,
“গ্রামের রাস্তায় গাড়ি চলে না। সাইকেল নিয়েই স্কুলে যাতায়াত করি। মায়ের সঙ্গে অন্যের জমিতে কাজ করে পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাই। কাজে যাওয়ার আগে আর ফিরে এসে পড়াশোনা করি। ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে চাই।”
মা সিজলী পাহান বলেন,
“প্রায় ১৪ বছর আগে ওর বাবা মারা গিয়েছেন। অন্যের জমিতে কাজের পাশাপাশি হাঁস, মুরগি আর ছাগল পালন করে কিছু টাকা জোগাড় হয়। তা দিয়ে দুই মেয়ের পড়াশোনা চালানো খুবই কঠিন। উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক। সরকারি সাহায্য পেলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।”
নালন্দা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সৌমিত দাস বলেন,
“ছোট থেকেই সুস্মিতা পড়াশোনায় মনোযোগী। অভাব-অনটনের মধ্যেও লড়াই করে এই ফল করেছে। ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক—এই কামনাই করি।”