হুগলি: বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক দৃঢ়চেতা যুবকের অনন্য জীবনসংগ্রামের গল্প এটি। নাম দেবাশীষ ব্যানার্জী। প্রায় তিন দশক আগে শুরু হয়েছিল তাঁর লড়াই—নিজের বিরুদ্ধে, সমাজের বিরুদ্ধে এবং সর্বোপরি প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে। ভাঙনের পথ ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন উত্তরণের পথ।
রসায়নে স্নাতক হয়ে দেশের একজন দায়িত্ববান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তাঁর যাত্রা শুরু। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কখনও উত্তরপ্রদেশ, কখনও ছত্তিশগড়ে পাড়ি দেন দেবাশীষ। পরবর্তীতে তিনি M.Ed ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেই সময়েই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দুটি কোচিং সেন্টার, যেখানে প্রায় ৫৫ জন বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
দেবাশীষ ব্যানার্জীর কাছে শিক্ষকতা কখনও শুধুমাত্র একটি পেশা ছিল না। তাঁর বিশ্বাস, একজন শিক্ষক মানেই একজন সমাজ পরিবর্তনকারী। তাই সরকারি চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হলেও তিনি নিজেকে কোনও প্রতিষ্ঠানের নিয়মে আবদ্ধ রাখেননি। নিজের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তিকে সঙ্গী করে শুরু করেন নতুন পথচলা।
২০২০ সাল। ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মাঝেই কামারপুকুরের পুণ্যভূমিতে জন্ম নেয় তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সৃষ্টি—KRV একাডেমি, কামারপুকুর (CBSE)। মানবিক মূল্যবোধ ও গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। শুধু একটি স্কুল নয়, তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে একদল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, যাঁরা একই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েই থেমে থাকেননি দেবাশীষ ব্যানার্জী। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন তাঁর জীবনের অঙ্গ। কখনও খানাকুলে বন্যাকবলিত এলাকায় নৌকা নিয়ে পৌঁছে গিয়ে টানা ন’দিন রান্না করে খাইয়েছেন দুর্গত মানুষদের। আবার কখনও পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকিও নিয়েছেন।
এই সব প্রতিকূলতার মাঝেও পিছিয়ে যাননি তিনি। দেবাশীষ ব্যানার্জীর বিশ্বাস,
“ভালো কাজে ঈশ্বরের আশীর্বাদ কখনও ফুরোয় না।”
সংগ্রাম, শিক্ষা ও মানবিকতার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর এই পথচলা আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।