কলকাতা:
বছর শেষের মুখে পশ্চিমবঙ্গে শীতের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যাওয়ায় শীতের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোর ও রাতের দিকে কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইতে থাকা শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া এবং পরিষ্কার আকাশের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে গেছে। কলকাতায় এই মরশুমের অন্যতম শীতল দিনের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশ কয়েক বছর পর ডিসেম্বরের শেষে এতটা নিচে নেমেছে বলে দাবি আবহাওয়াবিদদের।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় শীতের প্রভাব আরও বেশি। পাহাড়ি এলাকায় কুয়াশার দাপটে যান চলাচলেও সমস্যার খবর মিলেছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা ও জেলার রাস্তাঘাটে গরম পোশাকে মোড়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ফুটপাথবাসী ও প্রান্তিক মানুষের কাছে এই ঠান্ডা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন ইতিমধ্যেই শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে। প্রশাসনের তরফেও প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই আবহাওয়ায় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন রাজ্যে শীতের এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত রাজ্যে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।