ওড়িশার খোরধা জেলায় ফের দাঁতাল হাতির তাণ্ডবে প্রাণ গেল এক যুবকের। সতর্কতা জারি থাকা সত্ত্বেও আজ সকালে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ভুবাসুনি পাটনার বাসিন্দা প্রিয়ব্রত পারিদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোরধা রেঞ্জের অন্তর্গত বেগুনিয়া, বাঘমারি, ভুবাসুনি পাটনা, পারিচাল, ছাই, আত্রি-সহ একাধিক এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই হাতির পাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গভীর রাতে দল বেঁধে গ্রামে ঢুকে ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে দিচ্ছে হাতিরা। শুধু তাই নয়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে তারা। রাতভর এই তাণ্ডবে ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের।
আজ সকালে সেই আতঙ্কই বাস্তবে রূপ নেয়। কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরোতেই দাঁতাল হাতির সামনে পড়ে যান যুবক প্রিয়ব্রত পারিদা। মুহূর্তের মধ্যেই হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। পুলিশের পাশাপাশি বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, আগাম সতর্কতা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনের বেলায় মাইকে সতর্কতা প্রচার এবং রাতে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে হাতির গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে।
বন বিভাগের আধিকারিকরা আরও জানান, কাইপাদার, গুদুম, আন্দা, বাজপুর, পানবরাজ-সহ আশপাশের এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০টি হাতির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বহু মানুষ রাতের ঘুম ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বেগুনিয়ার বিধায়ক প্রদীপ কুমার সাহু। তিনি গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মৃতের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রেড ক্রস তহবিল থেকে ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মৃতদেহ উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা হাতির পালকে গ্রাম থেকে দূরে সরানোর জন্য আরও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
খোরধা জেলায় দাঁতাল হাতির লাগাতার তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা।