পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে এবার প্রকাশ্যে এল অভ্যন্তরীণ মতভেদ। এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদত্যাগের পর থেকেই রাজ্যের জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিবাদী মঞ্চে ক্রমশ বাড়ছে বিভাজন ও অসন্তোষ। সংগঠনের ভিতরে নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ পদত্যাগ করার পরেই একাধিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ওই প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে আন্দোলনের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জুনিয়র ডাক্তারদের একটি অংশের অভিযোগ, আন্দোলনের দিশা নির্ধারণে সকলের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতি থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়েই এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ঐক্য ফেরানো হবে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে চিকিৎসক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই আন্দোলনের প্রভাব সাধারণ রোগী ও হাসপাতাল ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলন যত শক্তিশালী হোক না কেন, অভ্যন্তরীণ বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব কমিয়ে দেয়। তাই জুনিয়র ডাক্তারদের এই প্রতিবাদী মঞ্চের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্য বজায় রাখা এবং আন্দোলনের মূল দাবিগুলিকে সামনে রেখে একজোট থাকা।
সব মিলিয়ে, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত ও আলোচনা থেকেই স্পষ্ট হবে, এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন কতটা প্রভাব ফেলতে চলেছে গোটা আন্দোলনের ভবিষ্যতের উপর।