মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে প্রস্তুতি রাজ্যের, ১৬ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী ১৬ জানুয়ারি মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের ধর্মীয় মানচিত্রে একটি নতুন সংযোজন হতে চলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মন্দির শুধু উপাসনার স্থান হিসেবেই নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সূত্রের খবর, মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক নকশা এবং জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হলে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, মহাকাল মন্দির প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো ধর্মীয় পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। মন্দিরকে ঘিরে পর্যটকের আগমন বাড়লে হোটেল, পরিবহণ, ছোট ব্যবসা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্য সরকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় সংস্কার ও নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা চলছে। মহাকাল মন্দির প্রকল্প সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ধর্মীয় পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো গড়ে উঠলে এই মন্দির রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি, এটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।

সব মিলিয়ে, মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান রাজ্যের ধর্মীয় ও পর্যটন পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে চলেছে। এখন সব নজর আগামী ১৬ জানুয়ারির দিকে—সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these