নলহাটি: রবিবার দুপুরে বীরভূমের নলহাটিতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। টোটো ও ১৬ চাকা লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটি থানার পেলোয়ান বাবা মাজার সংলগ্ন এলাকা, ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর চামটি বাগানের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ পেঁয়াজ বোঝাই একটি ১৬ চাকা লরি দ্রুতগতিতে জাতীয় সড়ক দিয়ে আসছিল। সেই সময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি টোটোর সঙ্গে লরিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় টোটোটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছোট হাজারপুরের বাসিন্দা সিটু সা ও সেজাল সা, এবং হরিসরা এলাকার বাসিন্দা মিন্টন শেখের। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে টোটোর আর কোনও অংশ প্রায় অক্ষত ছিল না।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন। এমনকি মৃতদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, পাশাপাশি ডাক পার্টির তোলাবাজির মতো বেআইনি কার্যকলাপ চলছে। প্রশাসনের উদাসীনতার জেরেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তাঁরা। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
খবর পেয়ে নলহাটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার জনতাকে শান্ত থাকার এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা নলহাটি এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃতদের পরিবারে চলছে কান্নার রোল। স্থানীয়দের একটাই দাবি—এই জাতীয় সড়কে অবিলম্বে কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা না ঘটে।