বীরভূম: আজ বীরভূম জেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা করতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভাকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সভায় বিশেষভাবে উঠে আসতে চলেছে বীরভূমের বাসিন্দা সুনালী খাতুনের ‘পুশব্যাক’ ঘটনা, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সুনালী খাতুনের ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের উপর প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও কেন্দ্রের নীতির প্রভাবের প্রতিফলন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে এই ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মানবিকতার প্রশ্ন তুলে ধরতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
আজকের এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে রামপুরহাট সংলগ্ন এলাকায়। সকাল থেকেই সভাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন তৃণমূল সমর্থকরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পোস্টারে সাজানো হয়েছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে সভা ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সভা শুধু একটি জেলা স্তরের কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের রাজনৈতিক রণকৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR), পুশব্যাক এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ইস্যুতে কেন্দ্রের ভূমিকার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে যে আন্দোলনের আবহ তৈরি হচ্ছে, তারই একটি প্রতিফলন আজকের সভা।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও এই সভার দিকে কড়া নজর রেখেছে। তাদের দাবি, তৃণমূল এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে শাসক দলের পাল্টা বক্তব্য, মানুষের সঙ্গে যা ঘটছে, তা তুলে ধরা রাজনীতির বাইরে গিয়ে নৈতিক দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে, আজ বীরভূমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। সুনালী খাতুনের পুশব্যাক ইস্যু ঘিরে তাঁর বক্তব্য কী হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।