কলকাতায় I-PAC কার্যালয় ও শীর্ষ আধিকারিকের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি, রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার সকালে কলকাতায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন প্রয়োগকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC)-এর সল্টলেকস্থিত অফিস এবং সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিকের আবাসনে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্রের খবর, এই তল্লাশি আর্থিক লেনদেন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি চলমান তদন্তের অংশ। শুক্রবার ভোরে ইডি-র একাধিক দল সল্টলেক এলাকার I-PAC অফিসে প্রবেশ করে নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখতে শুরু করে। অফিসে উপস্থিত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

ডিজিটাল ডেটা ও নথির নিবিড় পরীক্ষা

তল্লাশি চলাকালীন ইডি আধিকারিকরা একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পরীক্ষা করেন। সূত্রের দাবি, নির্বাচনী কৌশল, তথ্য সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, এ বিষয়ে এখনও ইডি-র তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য

ইডি-র ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মমাফিক তদন্ত প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না বলে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই তল্লাশির পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। শাসকদলের একাধিক নেতা এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী মতাদর্শকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, তদন্তে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাদের দাবি, যদি কোনও অনিয়ম না হয়ে থাকে, তবে তদন্তে সহযোগিতা করাই উচিত এবং সত্য সামনে আসবেই।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আইন ও সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা রক্ষা করার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী

ইডি সূত্রে জানা গেছে, বাজেয়াপ্ত নথি ও ডিজিটাল ডেটার বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। আগামী দিনে এই মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

উপসংহার

নির্বাচনী আবহে এই তল্লাশি অভিযান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—দু’দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these