চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় গতকাল রাতের ভয়াবহ ঘটনার ফলে একটি ছোট্ট পরিবারের জীবন কেঁপে উঠল। মাত্র ১২ বছরের শিশু শ্রাবন্তী ঘোষ তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র মৃত্যুর ঘটনা নয়, শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শ্রাবন্তী চট্টগ্রাম জেলার লালখান বাজার এলাকার একজন সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান। তার বাবা তপন ঘোষ একজন নিরাপত্তারক্ষী, আর মা রোজি ঘোষ গার্মেন্টস খাতে কাজ করেন। স্থানীয়দের এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, শিশুটিকে হত্যা করার আগে এক বা একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। শিশুটির শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা ঘটনার নৃশংস প্রকৃতি প্রকাশ করছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB‑৭) দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দুই প্রতিবেশীকে – প্রাদিপ ও অজয় – আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজনরা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিবার শীঘ্রই ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করবে।
শ্রাবন্তীর অকাল মৃত্যু পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় স্কুল, কমিউনিটি নেতারা এবং প্রতিবেশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে শিশুটির হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ধর্ষণের প্রমাণাদি নির্ধারণ করা হবে। তারা জানিয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে হত্যার আগে শিশু ধর্ষিত হয়েছিল, তবে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই নৃশংস ঘটনায় চট্টগ্রামবাসী এবং দেশবাসী গভীরভাবে শোকাহত। সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শিশুদের প্রতি সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। প্রশাসনও জানিয়েছে যে তারা পূর্ণ সতর্কতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য তদন্তকে ত্বরান্বিত করছে।
শ্রাবন্তী ঘোষের অকাল মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, সমগ্র সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে যে, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।