মারণ চুম্বনের পরিণতি! জার্মানির জেলে প্রেমিকার পাচার করা মাদক গিলে বন্দির মৃত্যু—চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মহলে

বিদেশ ডেস্ক:
ভালোবাসার সাক্ষাৎই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠল। জার্মানির একটি সংশোধনাগারে এক বন্দির মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। অভিযোগ, প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চুম্বনের মাধ্যমে গোপনে পাচার করা মাদক গিলে নেওয়ার পরই মৃত্যু হয় ওই বন্দির।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মৃত বন্দি একজন বিদেশি নাগরিক, যিনি আগেই মাদক সংক্রান্ত মামলায় জার্মানির একটি জেলে বন্দি ছিলেন। নিয়ম মেনে প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সাক্ষাতেই ঘটে যায় ভয়ংকর ঘটনা।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমিকা নিজের মুখে করে নিষিদ্ধ মাদক লুকিয়ে জেলের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। সাক্ষাতের সময় চুম্বনের মাধ্যমে সেই মাদক বন্দির মুখে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর বন্দি মাদকের প্যাকেটগুলি পুরোপুরি গিলে ফেলেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার কিছু সময় পর থেকেই বন্দির শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। সহবন্দিরা লক্ষ্য করেন, তিনি অসুস্থ বোধ করছেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তাঁকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও প্রথমে তিনি তা এড়িয়ে যান। পরদিন সকালে জেলের সেল থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, পাকস্থলীর ভেতরে মাদক ভর্তি প্যাকেট ফেটে যায়। ফলে দ্রুত বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে শরীরে, যার জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওই বন্দির।

ঘটনার পরই প্রেমিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে জার্মান পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অপরাধে প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি খতিয়ে দেখছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানির জেল ব্যবস্থায় সাক্ষাতের নিয়ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক সাক্ষাতের সুযোগ বজায় রেখেও কীভাবে এমন পাচার রোখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে প্রশাসনকে।

ভালোবাসা, অপরাধ আর লোভ—এই তিনের মিশ্রণে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বজুড়ে ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল জেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও মাদক পাচারের ভয়াবহতা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these