আইপ্যাক–ইডি অভিযান ঘিরে উত্তাল বাংলা রাজনীতি, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)–এর অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বুধবার ইডি–র এই তল্লাশি অভিযানের মাঝেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্ত চলাকালীন তাঁর উপস্থিতি এবং কিছু নথি বা ফাইল নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

সূত্রের দাবি, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলায় ইডি আধিকারিকরা প্রতীক জৈনের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বিরোধীদের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা তদন্তকারী সংস্থার কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে আইনশৃঙ্খলা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। শাসকদলের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক কৌশলবিদ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তারা জানিয়েছে, কোনও বেআইনি কাজ বা তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক আরও বেশি তিক্ত হয়ে উঠছে, আর এই ধরনের ঘটনায় সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে আসছে। ইডি অভিযানের আইনি দিক, মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা এবং বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর।

এই ঘটনার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these