দক্ষিণবঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের চরম সতর্কতা, ১২ ঘণ্টার মধ্যে কনকনে ঠান্ডায় কাঁপতে পারে জনজীবন

দক্ষিণবঙ্গে এবার শীতের দাপট যেন নতুন মাত্রা নিতে চলেছে। “Weather of West Bengal”-এর তরফে জারি করা বিশেষ শৈত্য সতর্কতায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার ১০ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হাড়কাঁপানো কনকনে শীত অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করবে। রাত যত বাড়বে, ততই বাড়বে ঠান্ডার তীব্রতা। বিশেষ করে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ে বাতাসে এমন ঠান্ডা থাকবে যে হাত-পা অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এই শীতের দাপট শুধু স্বাভাবিক শীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না বলেই আশঙ্কা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু কিছু অঞ্চলে এই কনকনে শীত গত কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। চলতি ২০২৫–২৬ শীত মরশুমে এখনও পর্যন্ত এটি হতে চলেছে সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। অনেক আবহাওয়াবিদই আশঙ্কা করছেন, দক্ষিণবঙ্গের ইতিহাসে এটি হতে পারে অন্যতম শীতল রাত।
বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমের হাওয়ার প্রভাবে কলকাতা সহ হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি পড়তে পারে। গ্রামাঞ্চল ও খোলা এলাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই প্রবল শীতের মাঝেই সামান্য স্বস্তির বার্তা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, শনিবারের পরবর্তী দু’দিন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ তার পর আবারও জাঁকিয়ে শীত ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাতের দিকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া এড়াতে বলা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, গরম খাবার গ্রহণ এবং ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে আগামী কয়েক দিন শীতের চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে। আবহাওয়ার এই আচমকা বদলে জনজীবনে কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these