দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা, পুলিশি ধরপাকড়ে আটক একাধিক তৃণমূল সাংসদ

নয়াদিল্লি:
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে নামেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকার সামনে সেই বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশি হস্তক্ষেপে একের পর এক তৃণমূল সাংসদকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূলের সাংসদরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সেই সময় কয়েকজন সাংসদকে কার্যত টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশ্যে আটক, ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সাংসদ মহুয়া মৈত্র সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, মহিলা সাংসদকে দুই পুলিশকর্মী ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এক প্রবীণ সাংসদকেও পুলিশের হাতে আটক হতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে দমন করতেই এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলের এক নেতা বলেন,
“আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিনি। শুধুমাত্র প্রশ্ন তুলেছিলাম। তার জবাব হিসেবে আমাদের গ্রেপ্তার করা হলো।”

কী নিয়ে এই প্রতিবাদ?

সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ইস্যুকে সামনে রেখেই দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমায়েত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র বনাম বিরোধী—রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য,
“সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যদি এই ব্যবহার হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কোথায়?”

অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইন সবার জন্য সমান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।

দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিরোধী দলগুলির একাংশ তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। আবার শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

সামনে কী?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার প্রতিবাদে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সরব থাকবে।

একদিকে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে দিল্লির রাজনীতি এখন কার্যত উত্তাল। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা দেশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these