কলকাতা | ১০ জানুয়ারি ২০২৬:
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সাম্প্রতিক অভিযান ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত ইডি অভিযান কোনও আর্থিক তদন্তের জন্য নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
শনিবার কলকাতায় এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তদন্তের নামে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক দলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সংগঠন ও তথ্য ব্যবস্থায় আঘাত হানাই এই অভিযানের আসল লক্ষ্য।”
অভিযানের সময় কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি ইডি কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা আই-প্যাকের একটি অফিসে তল্লাশি চালায়। সেই অভিযানের সময় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, অভিযানের সময় এমন নথি ও ডিজিটাল ডেটা খোঁজা হচ্ছিল, যার সঙ্গে কোনও আর্থিক মামলার সম্পর্ক নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, আই-প্যাক দীর্ঘদিন ধরেই দলের কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে আসছে এবং সেই কারণেই এই সংস্থাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি শুধুই পশ্চিমবঙ্গের বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দল শাসিত সরকারগুলির বিরুদ্ধেই একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতারা একে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করেছেন।
কেন্দ্রের পাল্টা অবস্থান
যদিও ইডি বা কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, সমস্ত অভিযান আইন মেনেই করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তদন্তের স্বার্থেই নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে তৃণমূল নিজেদের ‘বঞ্চিত রাজ্য’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী দলগুলিও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সামনে কী?
এই ঘটনার পর ইডি ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আগামী দিনের শুনানিগুলির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক–ইডি বিতর্ক শুধুমাত্র একটি তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই—এটি ক্রমেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ভোটের আগে এক বড় সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।