কলকাতা:
আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত অভিযান ও তদন্তকে ঘিরে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিল। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে কেভেট দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, আই-প্যাক সংক্রান্ত কোনও মামলায় যদি কেন্দ্রীয় কোনও সংস্থা বা অন্য কোনও পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানায়, সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে যাতে কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না হয়, সেই কারণেই এই কেভেট দাখিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতে কোনও আবেদন জমা পড়লে রাজ্য সরকারের বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আই-প্যাক সংক্রান্ত তদন্ত এবং অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই তদন্তের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে আইন অনুযায়ী তদন্তের কথা বলা হলেও, রাজ্য সরকারের অভিযোগ—এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক রং।
আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, কেভেট দাখিলের মাধ্যমে রাজ্য সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এনে দিল।
রাজনৈতিক মহলে এই ইস্যু ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। শাসকদলের নেতাদের দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করে কেন্দ্রীয় চাপ প্রয়োগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানো হবে। বিরোধীদের মতে আবার, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক নাটক এবং সত্য উদঘাটনের ভয় থেকেই এই আগাম পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক তদন্তকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই কেভেটের পর সুপ্রিম কোর্টে কী ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয় এবং তার প্রভাব কতটা পড়ে রাজ্য রাজনীতিতে।