হুগলি:
হুগলি জেলায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা অভিযোগ জানালে দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তৃণমূলের ওই স্থানীয় নেতাসহ আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতিতাকে ভয় দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় বারবার এমন অপরাধ ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, নাবালিকারা পর্যন্ত নিরাপদ নয়।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, আইন আইনের পথেই চলবে। দলের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। শাসকদলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনও গাফিলতি রাখা হবে না। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা ও গোপন জবানবন্দির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হুগলির এই নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।