তামলুকে ভোটার তালিকা বিতর্কে গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা, ফর্ম–৭ জমা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তামলুকে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। জীবিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তামলুকের একটি বুথ এলাকায় ফর্ম–৭ জমা দিয়ে একাধিক জীবিত ভোটারের নাম মৃত বা অযোগ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই ফর্মে অন্তর্ভুক্ত বহু ভোটার বর্তমানে জীবিত এবং নিয়মিত ভোট প্রদান করে আসছেন। বিষয়টি নজরে আসতেই সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার প্রশাসনের উচ্চস্তরে রিপোর্ট করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই ঘটনার সঙ্গে একজন বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এরপরই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা নিয়ে ইচ্ছাকৃত কারচুপি করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তামলুকের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

বর্তমানে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these