গণতন্ত্র দিবস ২০২৬-এ ইতিহাস গড়তে চলেছেন সিমরান বালা, পুরুষদের সিআরপিএফ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মীরের কন্যা

আগামী ২৬ জানুয়ারি, গণতন্ত্র দিবস ২০২৬—এই দিনে দিল্লির কর্তব্যপথে ভারতের সামরিক ও আধাসামরিক শক্তির প্রদর্শনের মধ্যেই সাক্ষী থাকবে দেশ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। প্রথমবারের জন্য সিআরপিএফ-এর সম্পূর্ণ পুরুষ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেবেন এক মহিলা অফিসার। এই বিরল সম্মান পেয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ অফিসার সিমরান বালা।

সিমরান বালার এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে নারী ক্ষমতায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষপ্রধান বলে পরিচিত বাহিনীতে নেতৃত্বের এই ভূমিকা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

জানা গিয়েছে, সিমরান বালার বাড়ি জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা অঞ্চলে—যা ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই সীমান্তের কাছাকাছি বড় হওয়া সিমরানের জীবনে দেশসেবার ভাবনা গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ থেকেই তাঁর মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার বীজ রোপিত হয়।

শিক্ষাজীবনে সিমরান রাজনীতি বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি কঠিন UPSC-র CAPF পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিআরপিএফ-এ অফিসার হিসেবে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ পর্বে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গুরুগ্রামের সিআরপিএফ অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় তাঁকে সেরা প্রশিক্ষণার্থী অফিসার হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সিআরপিএফ সূত্রে জানা গেছে, ছত্তীসগঢ়ে বস্তার অঞ্চলে তাঁর প্রথম পোস্টিং হয়, যেখানে তিনি মাওবাদী দমন অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা নেন। কঠিন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা তাঁকে দ্রুত সিনিয়র অফিসারদের নজরে আনে।

এই সমস্ত কারণেই গণতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে পুরুষ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিআরপিএফ-এর এক আধিকারিক জানান, “এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রতীকী নয়। সিমরান বালা দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের মানদণ্ডে সম্পূর্ণ যোগ্য বলেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন।”

নিজের এই সাফল্য নিয়ে সিমরান বালা জানিয়েছেন, এটি তাঁর একার নয়—বরং তাঁর পরিবার, জম্মু-কাশ্মীরের যুবসমাজ এবং দেশের সমস্ত মেয়েদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও বাধাই স্থায়ী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্র দিবসে সিমরান বালার নেতৃত্ব দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে মেয়েদের কাছে এক শক্তিশালী বার্তা দেবে—দেশসেবার পথে লিঙ্গ কোনও বাধা নয়।

সব মিলিয়ে, গণতন্ত্র দিবস ২০২৬-এ কর্তব্যপথে সিমরান বালার দৃপ্ত পদচারণা শুধুমাত্র একটি প্যারেড নয়, বরং নতুন ভারতের আত্মবিশ্বাস ও সমতার প্রতীক হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these