কলকাতা:
টলিউড অভিনেতা ও বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে ফের তীব্র বিতর্ক। তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার আনন্দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং আইনসম্মত বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় থাকাকালীন হিরণ চট্টোপাধ্যায় অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং পরে তাঁকে বিয়েও করেন। এই বিয়ের বিষয়ে তিনি কোনওভাবেই অবগত ছিলেন না এবং বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আসার পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে একটি বিবাহ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। সেই ছবি ঘিরেই প্রশ্ন ওঠে—আইনসম্মতভাবে কি প্রথম বিবাহের ইতি টানা হয়েছিল? অভিযোগকারীর দাবি, কোনও চূড়ান্ত আইনি বিচ্ছেদ ছাড়াই এই দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনায় আনন্দপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী রিতিকা গিরি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই তাঁরা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিতিকার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম পক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল এবং কোনও কিছুই গোপনে করা হয়নি।
এই মামলায় হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে এই ঘটনা ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। একজন জনপ্রিয় অভিনেতা এবং সক্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে এই অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে আইনসম্মত বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি আইনি জটিলতায় গড়াতে পারে। পাশাপাশি, নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারও আলাদা আইনগত পরিণতি হতে পারে।
পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে, এবং এই পারিবারিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর।
— রিপোর্ট: SENews Bangla