কলকাতা:
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা আরও কড়া করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। নতুন ট্রাফিক বিধি অনুযায়ী, একজন চালক যদি এক বছরের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি বার ট্রাফিক আইন ভাঙেন, তাহলে তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত কিংবা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙা চালকদের বিরুদ্ধে এবার আর শুধুমাত্র জরিমানা নয়, নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। মূলত যাঁরা নিয়মকে উপেক্ষা করে বারবার একই ধরনের অপরাধ করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতেই এই ব্যবস্থা।
কোন কোন অপরাধে পড়তে পারেন বিপদে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক সাধারণ কিন্তু বিপজ্জনক ট্রাফিক অপরাধকে হিসেবের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সিগন্যাল অমান্য করে রেড লাইট জাম্প
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো
হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করা
ভুল জায়গায় পার্কিং
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো
অতিরিক্ত বোঝা বহন করা
এই ধরনের অপরাধ পাঁচবার বা তার বেশি হলে চালকের লাইসেন্স নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কীভাবে নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত?
পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করার আগে সংশ্লিষ্ট চালককে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সমস্ত ই-চালান ও ট্রাফিক রেকর্ড খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, হঠাৎ করে কোনও চালকের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হবে না, তবে অভ্যাসগত অপরাধীদের ক্ষেত্রে কড়া মনোভাব নেবে প্রশাসন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারের দাবি, দেশে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বড় কারণ ট্রাফিক আইন অমান্য। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে অতিরিক্ত গতি ও সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নতুন এই নিয়মের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা কমবে বলেই আশা।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
এই নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ ও পথচারী। তাঁদের মতে, কড়া আইন ছাড়া ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। তবে কিছু চালকের মত, নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ভুল ই-চালানের কারণে কেউ যাতে অযথা সমস্যায় না পড়েন, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মত
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চালকদের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পাশাপাশি নিয়ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, নতুন এই ট্রাফিক বিধি দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন দেখার, এই কড়াকড়ি বাস্তবে কতটা শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে।