কলকাতা:
জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ মিমি চক্রবর্তী সম্প্রতি SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত একটি নোটিশ পেয়েছেন, যাতে তাঁকে নির্দিষ্ট তারিখে একটি শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই রাজনীতি ও বিনোদন জগতের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, মিমিকে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর পরবর্তী একটি শেষ তারিখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইকরণ সংক্রান্ত একটি SIR hearing-এ উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল নথি ও পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
SIR-এর পেছনের উদ্দেশ্য কি?
SIR বা Special Intensive Revision একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন পরিচালিত কার্যক্রম, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভোটার তালিকা পরিষ্কার, আপ-টু-ডেট ও নির্ভুল রাখা। এর মধ্যে রয়েছে ভোটারের তথ্য যাচাই, দাবী-আপত্তি শোনানো ও ভুল বা পুরনো তথ্য ঠিক করা।
সমস্ত রাজ্যে এই SIR-এর আওতায় বিভিন্ন জায়গায় শুনানি এবং যাচাইকরণ কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গেও অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ ভোটারদের শুনানির নোটিস দেওয়া হচ্ছে।
মিমি চক্রবর্তীর SIR নোটিশ কি কারণে?
সরকারি সূত্র বলছে, কোনোও ভোটার তালিকার তথ্য বা দাবীর সঙ্গে মিল বা ফারাক থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে SIR-এর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। মিমির ক্ষেত্রে ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের জন্য কমিশন থেকে শুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
মিমি নিজেও এই নোটিস পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হবেন। নোটিসে নেই এমন কোনো গুরুতর অভিযোগ, বরং এটি একটি নিয়মিত যাচাই ও সংশোধনের অংশ বলে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মানুষ নোটিসটি নিয়ে গোপনীয়তা বা সঙ্কেত খুঁজছেন, আবার অনেকে এটিকে ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখার জন্য একটি নিয়মিত ও আইনগত কর্মপদ্ধতি হিসেবে দেখছেন।
অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, “যে কোনও জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও নিয়মের আওতায় আনাটাই উন্নত গণতন্ত্রের লক্ষণ।” আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—“পরিচয় যাচাই ছাড়া কি কেন এমন নোটিশ দেওয়া হলো?”—এর মতো প্রশ্নও দেখা গেছে।
SIR শুনানির গুরুত্ব
ওই কর্মকর্তা বা ভোটার যদি শুনানিতে উপস্থিত না হন, তাহলে নির্বাচন কমিশন সেই ব্যক্তির ভোটার তথ্য বাতিল বা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুনানি হয় তথ্য যাচাই ও ভুল তথ্য ঠিক করার জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, SIR-এর মাধ্যমে ভুল তথ্য, দ্বৈত তথ্য বা পুরোনো ভোটার তালিকা দ্রুত শনাক্ত হয় এবং ঠিক করে নেওয়া যায়, যাতে ভবিষ্যতের নির্বাচনে সঠিকতা বৃদ্ধি পায়।
মিমি চক্রবর্তীর রাজনৈতিক যাত্রা
মিমি চক্রবর্তী ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বন্দোবস্ত, সিনেমা ও বিনোদনের কাজেও ফের মনোযোগ দিয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয় ও জনসেবা নিয়েও তিনি সক্রিয় থাকেন।
আগামী সময়
এখন দেখার বিষয়, ২৪ জানুয়ারি নির্ধারিত SIR hearing-এ মিমি কি উপস্থিত থাকেন এবং শুনানার ফল কি হয়। নির্বাচনী rolls-এর উন্নত সংস্করণ তৈরির প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়—এটিই মূল লক্ষ্য এখন।