ব্যারাকপুর:
লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই আবহেই শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সর্বভারতীয় কৌশলবিদ অমিত শাহ। আনন্দপুরী ময়দানে অনুষ্ঠিত এই কর্মীসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতার নিউ টাউন এলাকার হোটেল থেকে রওনা দেন অমিত শাহ। প্রায় চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই তিনি পৌঁছন ব্যারাকপুরের সভাস্থলে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
সংগঠন চাঙ্গা করাই মূল লক্ষ্য
এই কর্মীসভায় মূলত আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের মধ্যে বার্তা দেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, বুথ স্তরের সংগঠন আরও মজবুত করা, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির অন্দরের মতে, ব্যারাকপুর, বারাসাত, বনগাঁ ও বসিরহাট—এই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা কেন্দ্রকে মাথায় রেখেই এই সভার আয়োজন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলাকে বিজেপি তাদের অন্যতম ‘টার্গেট জেলা’ হিসেবে দেখছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মাটুয়া সমাজকে ঘিরে বাড়তি নজর
এই সভা ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে মাটুয়া সমাজকে নিয়ে। উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার একাধিক এলাকায় মাটুয়া ভোটব্যাঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), মতুয়া শিবিরের দীর্ঘদিনের দাবি এবং কেন্দ্রের ভূমিকা—এই সব বিষয় নিয়ে অমিত শাহ কোনও বার্তা দেন কি না, সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যদিও সভা শেষে সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণার কথা সামনে আসেনি, তবুও বিজেপির অন্দরে মনে করা হচ্ছে, মাটুয়া সমাজের মন জয় করতে কেন্দ্র যে সক্রিয়, সেই বার্তাই পরোক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে চাপ
অমিত শাহের এই সফরকে শুধুমাত্র একটি কর্মীসভা হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও এই সভাকে ঘিরে পাল্টা কটাক্ষ শুরু হয়েছে। শাসক দলের দাবি, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘন ঘন সফর রাজ্যে বিজেপির সংগঠন দুর্বল হওয়ারই ইঙ্গিত।
অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং তারই প্রস্তুতি হিসেবে এই ধরনের সভা অত্যন্ত জরুরি।
পরবর্তী কর্মসূচি
ব্যারাকপুরের সভা শেষে অমিত শাহ উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন। বাগডোগরায়ও তাঁর দলীয় কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করার কথা।
সব মিলিয়ে, ব্যারাকপুরের এই কর্মীসভা স্পষ্ট করে দিল—লোকসভা ভোটের আগে বাংলায় রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। আর সেই লড়াইয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ও মাটুয়া সমাজ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।