নিজস্ব প্রতিবেদন | SENews Bangla:
ব্যারাকপুরের পরিচিত বিরিয়ানি বিক্রেতা অনির্বাণ দাসকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। ব্যবসার সাফল্যের জন্য যিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলেন, সেই অনির্বাণ দাস এবার খবরের শিরোনামে উঠে এলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। পারিবারিক বিবাদ ও অভিযোগের জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কী থেকে শুরু এই বিতর্ক?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনির্বাণ দাসের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। অভিযোগ, অনির্বাণের স্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত চালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনা সামনে আসতেই পারিবারিক অশান্তি চরমে ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়, যখন অনির্বাণ দাস অভিযোগ করেন যে তাঁর স্ত্রী এবং চালক বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং বাইরে গিয়ে বিয়ে পর্যন্ত করেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পুলিশি হস্তক্ষেপ শুরু হয়।
থানায় উত্তেজনা ও অভিযোগ
সূত্রের খবর, পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সেখানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, থানার মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। এরপরই অনির্বাণ দাসের স্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অনির্বাণ দাসকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
জামিনে মুক্তি, কিন্তু বিতর্ক থামেনি
পরে অবশ্য অনির্বাণ দাস জামিনে মুক্তি পান। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। জামিনে বেরিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং চালকের ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দাবি করেন, দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে।
এই পোস্টগুলি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নতুন বিতর্ক। একাংশ অনির্বাণ দাসের পাশে দাঁড়ালেও, অন্য অংশ ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনার বিরোধিতা করেছে।
ব্যবসায়িক পরিচিতি
উল্লেখ্য, অনির্বাণ দাস ব্যারাকপুর ও সংলগ্ন এলাকায় এক সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় বিরিয়ানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক ব্যবসা থেকে আলাদা হয়ে তিনি নিজের উদ্যোগে নতুন ব্র্যান্ড শুরু করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পায়।
তবে এই ব্যক্তিগত বিতর্ক তাঁর ব্যবসার উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া চলছেই
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। সমস্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউই দোষী বা নির্দোষ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, এক জনপ্রিয় ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক এখন আইনি ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে। এই ঘটনার পরিণতি কী হয়, তা নিয়ে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহল এবং প্রশাসনেরও।