২০২৬ সালে রবিবার পড়ছে ১ ফেব্রুয়ারি, ইউনিয়ন বাজেট নিয়ে কী প্রভাব পড়তে পারে? বাড়ছে কৌতূহল

নিজস্ব প্রতিবেদন | SENews Bangla:
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি পড়ছে রবিবার। আর এই তারিখ ঘিরেই শুরু হয়েছে নানান আলোচনা ও জল্পনা। কারণ, প্রতি বছর এই দিনেই সংসদে পেশ করা হয় দেশের ইউনিয়ন বাজেট। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রবিবারে বাজেট পেশ হলে তার প্রভাব কী হতে চলেছে প্রশাসন, বাজার এবং সাধারণ মানুষের উপর?

রবিবারে বাজেট, নতুন কিছু নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, রবিবারে বাজেট পেশ করা একেবারেই নজিরবিহীন নয়। অতীতেও একাধিকবার ছুটির দিনে বাজেট পেশ হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখেই বাজেট পেশ করার রীতি চালু হয়েছে, যাতে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই সরকারি নীতিনির্ধারণ ও প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়।

সেই রীতিতেই ২০২৬ সালেও ১ ফেব্রুয়ারিতেই বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যদিও দিনটি রবিবার।

সংসদ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

সূত্রের খবর, রবিবার পড়লেও সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার ক্ষেত্রে কোনও সাংবিধানিক বাধা নেই। বাজেট পেশের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে। সংসদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, অর্থ মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলবে বলে জানা গিয়েছে।

শেয়ার বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

রবিবার সাধারণত শেয়ার বাজার বন্ধ থাকে। কিন্তু বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাজার খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার দিন বাজার বন্ধ থাকলেও তার প্রভাব পড়বে পরবর্তী কর্মদিবসে। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আগেভাগেই বাজেট অনুমান করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

সাধারণ মানুষের কাছেও বাজেট মানেই বড় প্রত্যাশা—মধ্যবিত্তের করছাড়, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ। রবিবারে বাজেট পেশ হলেও সেই প্রত্যাশায় কোনও ঘাটতি থাকবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ

২০২৬ সালের বাজেট রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনমত—সবকিছু মাথায় রেখেই বাজেট প্রস্তুত করবে কেন্দ্র। ফলে রবিবারে বাজেট পেশ হওয়া হলেও তার রাজনৈতিক তাৎপর্য কমছে না।

সব মিলিয়ে কী ইঙ্গিত?

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়লেও ইউনিয়ন বাজেট পেশের ক্ষেত্রে বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং সময়মতো বাজেট পেশ করে নতুন অর্থবর্ষের প্রস্তুতি আরও মজবুত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এখন নজর একটাই—২০২৬ সালের বাজেটে সাধারণ মানুষ, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these