কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ পেশের সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সংসদে বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, আগামী দিনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগ—সবকিছুকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এই বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুবসমাজ, নারীশিক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর।
নারী শিক্ষায় জোর, প্রতিটি জেলায় ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল
বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল, দেশের প্রতিটি জেলায় ছাত্রীদের জন্য নতুন হোস্টেল নির্মাণ। সরকারের মতে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে আবাসনের সমস্যা বহু মেধাবী ছাত্রীকে পিছিয়ে দেয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার আরও ভালো সুযোগ পাবে।
শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান—গঠন হবে বিশেষ কমিটি
শিক্ষাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে কেন্দ্র সরকার একটি স্থায়ী বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই কমিটির কাজ হবে এমন পাঠক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে পড়ুয়ারা পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির বাজারে নিজেদের উপযুক্ত করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিক্ষাব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
জলপথে পরিবহণে বড় পরিকল্পনা
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাজেটে বড় ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে দেশে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে পণ্য পরিবহণে খরচ কমবে, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জলপথ পরিবহণের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও জানানো হয়েছে।
শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়
বাজেট ঘোষণায় শেয়ার বাজার সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাজারে তারল্য বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষি ও বিশেষ ফসলের দিকে নজর
কৃষিক্ষেত্রেও বাজেটে একাধিক নতুন পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে নারকেল চাষ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি আলাদা প্রকল্প নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পুরনো গাছ প্রতিস্থাপন করে নতুন চারা লাগানোর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া
বাজেট ঘোষণার পর অর্থনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এই বাজেটকে ভবিষ্যতমুখী বলে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বলছেন—এর বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে প্রকল্পগুলি কার্যকর হওয়ার পরই।
ভবিষ্যতের দিশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ২০২৬ শুধু তাৎক্ষণিক সুবিধার কথা নয়, বরং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করেছে। শিক্ষা, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ—এই তিন স্তম্ভের উপর ভর করেই দেশের উন্নয়নের গতি বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র সরকার।