নতুন আর্থিক বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট। শনিবার সংসদে ২০২৬–২৭ আর্থিক বছরের জন্য বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবারের বাজেটে একদিকে যেমন কিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম কমার ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই আবার কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে খরচের চাপ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কমাতে বেশ কিছু শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারদরে।
কোন কোন জিনিস হতে পারে সস্তা
বাজেটে ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, বিশেষ করে ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমতে পারে।
সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় এই পণ্যগুলি আরও সস্তা হতে পারে।
বস্ত্র ও চামড়াজাত দ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের উপর শুল্ক হ্রাসের ফলে এই খাতে স্বস্তি মিলতে পারে ক্রেতাদের।
বাজেট ঘোষণার পর বাজারে সোনার দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
কোথায় বাড়তে পারে খরচ
অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যয়ের চাপ বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
কিছু খনিজ সম্পদ ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের উপর কর কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে দাম বাড়তে পারে।
বাজেট পরবর্তী সময়ে মদ ও বিলাসবহুল কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
অর্থনীতিতে প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো, আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে কিছু পণ্যের দামে ওঠানামা হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে দাম কমার আশায় স্বস্তি পাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
সামনে কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বাজারের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। কোন পণ্যে দাম কমছে আর কোথায় চাপ বাড়ছে, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ী ও বাজারের প্রতিক্রিয়ার উপর।