নতুন দিল্লি: কেন্দ্রীয় বাজেট মানেই শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি অংশমাত্র—এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, বাজেটকে আলাদা করে দেখলে চলবে না, কারণ সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ সারা বছর ধরেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
অর্থমন্ত্রীর কথায়, “বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু সেটাই পুরো গল্প নয়।” তাঁর দাবি, সরকারের তথাকথিত ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’ থেমে নেই, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানোর কাজ চলছে।
বাজেটের বাইরে কী হচ্ছে?
নির্মলা সীতারামনের মতে, সংসদে বাজেট বক্তৃতার সময় সীমিত থাকে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার, নীতি সংশোধন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয় না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
তিনি জানান, কর কাঠামোর সরলীকরণ, ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নত করা, শুল্ক সংস্কার, উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়া—এই সমস্ত কাজ বাজেটের বাইরেও অব্যাহত রয়েছে। সরকার একাধিক দপ্তর ও ক্ষেত্র জুড়ে একযোগে সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই মূল লক্ষ্য
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি। তাঁর মতে, একটি বাজেট শুধু একটি আর্থিক বছরের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং আগামী বহু বছরের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণের রূপরেখা তৈরি করে।
তিনি বলেন, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো—এই তিনটি দিকই সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মূল স্তম্ভ।
সংস্কারের গতি নিয়ে আত্মবিশ্বাস
সংস্কারের গতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সীতারামন জানান, ভারত ধীরে নয়, বরং স্থির ও পরিকল্পিত গতিতে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলির প্রভাব একদিনে বোঝা না গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সুফল স্পষ্ট হবে।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে শুধু বাজেটের ঘোষণার দিকেই নজর রাখেন। কিন্তু বাস্তবে যে কাজগুলো চলছে, সেগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
অর্থনীতির বড় ছবির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান
অর্থমন্ত্রীর মতে, শুধু কর ছাড় বা বরাদ্দের অঙ্ক দেখে অর্থনীতির স্বাস্থ্য বিচার করা ঠিক নয়। বরং কাঠামোগত সংস্কার, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নের গতিই ঠিক করে দেয় দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনীতিকে স্বল্পমেয়াদি লাভের বাইরে এনে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্মলা সীতারামনের বার্তা পরিষ্কার—বাজেট গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাজেটের বাইরেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চাকা দ্রুত গতিতে ঘুরছে।