কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনেও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদিন পরীক্ষার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দিনে দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে কড়া নজরদারি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়। সভাপতি নিজে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে বসার ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র বিতরণ, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে কী দেখলেন পর্ষদ সভাপতি
পরিদর্শনের সময় পর্ষদ সভাপতি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি খোঁজ নেন পরীক্ষার্থীদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না এবং পরীক্ষার পরিবেশ কতটা শান্ত রয়েছে।
পর্ষদ সভাপতি জানান, দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত কোনও বড় অঘটনের খবর নেই, যা পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার সাফল্যকেই তুলে ধরছে। তাঁর মতে, পর্ষদ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের ফলেই এত বড় পরীক্ষাটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় জোর
রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এবছর পরীক্ষার আগে থেকেই একাধিক দফায় প্রস্তুতি বৈঠক করা হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত নজরদারি, সিসিটিভি, অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য হেল্পলাইন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পর্ষদ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষক, প্রশাসন এবং পুলিশ—সকলের সহযোগিতায় পরীক্ষা সুন্দরভাবে চলছে।”
প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক
উল্লেখ্য, পরীক্ষার প্রথম দিনেও রাজ্যজুড়ে প্রায় লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় নয় লক্ষেরও বেশি, যার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি।
প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দিনেও পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত সতর্কতা রাখা হয়েছিল। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছনো এবং অভিভাবকদের সহায়তার বিষয়েও প্রশাসনের তরফে নজর রাখা হয়।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
পর্ষদ সভাপতি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ভয় বা দুশ্চিন্তা না করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হবে। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র পাঠ্যক্রমের মধ্যেই রয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই মূল্যায়ন করা হবে।
সামগ্রিক চিত্র
সব মিলিয়ে, মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত রাজ্যে পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। পর্ষদ ও প্রশাসনের দাবি, আগামী দিনগুলিতেও একইভাবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য।
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এত বড় পরীক্ষার আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার, আগামী পরীক্ষার দিনগুলিতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না।