কলকাতা/ঢাকা:
বাংলাদেশ ও মায়ানমার সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। সোমবার রাতের এই ভূকম্পনে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৬, যার জেরে ঘরবাড়ির ভেতরে থাকা মানুষজন ভয় পেয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আচমকা কেঁপে ওঠে মেঝে ও আসবাবপত্র। অনেক জায়গায় ছাদের পাখা ও ঝাড়বাতি দুলতে দেখা যায়। প্রথমে কী হচ্ছে বুঝতে না পেরে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন হলেও তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
কখন ও কোথায় অনুভূত হয় কম্পন
ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ন’টার কিছু পর এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূকম্পনের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। যদিও উৎপত্তিস্থল ভারতের বাইরে, তবুও কম্পনের প্রভাব বহু কিলোমিটার দূরে ছড়িয়ে পড়ে।
কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে খবর।
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
ভূমিকম্প শুরু হতেই বহু মানুষ বাড়ি ও ফ্ল্যাট ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। আবাসন ও বহুতলের বাসিন্দারা সিঁড়ি দিয়ে নেমে খোলা জায়গায় জড়ো হন। কেউ কেউ ফোন করে আত্মীয়-পরিজনের খোঁজ নিতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ভূমিকম্প সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথা।
অনেকে জানিয়েছেন, প্রথমে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি হয়েছিল। এরপরই বোঝা যায় যে ভূমিকম্প হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, প্রশাসনের স্বস্তি
এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। রাজ্য প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনও জরুরি পরিস্থিতির খবর মিললে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
বিশেষজ্ঞদের মত
ভূকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ানমার ও তার আশপাশের অঞ্চল ভূকম্পপ্রবণ এলাকা। সেই কারণে সেখানে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প ঘটে। শক্তিশালী ভূকম্প হলে তার প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতেও অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
তাঁদের মতে, যদিও এই ভূমিকম্পে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদে থাকতে হবে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আতঙ্ক কাটলেও উদ্বেগ রয়ে গেল
কম্পন থেমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মানুষ ধীরে ধীরে বাড়িতে ফিরলেও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে যারা বহুতলে থাকেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, কয়েক সেকেন্ডের কম্পনই বুঝিয়ে দিল—প্রকৃতির সামনে মানুষ কতটা অসহায়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ-মায়ানমার অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে ফের একবার সতর্ক করে দিল ভূমিকম্পজনিত বিপদের বিষয়ে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেই প্রস্তুতির কথাও নতুন করে ভাবাচ্ছে এই ঘটনা।