নিউজ ডেস্ক:
পৃথিবীর একমাত্র নক্ষত্র সূর্য ফের একবার তার ভয়ংকর রূপ দেখাতে শুরু করেছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সূর্যের একটি সক্রিয় অঞ্চলে একের পর এক মোট ২৭টি সোলার ফ্লেয়ার বিস্ফোরিত হয়েছে। এই অস্বাভাবিক সৌর কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস পরিষেবা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী এই সোলার ফ্লেয়ার?
সোলার ফ্লেয়ার মূলত সূর্যের পৃষ্ঠে জমে থাকা বিপুল চৌম্বকীয় শক্তির হঠাৎ বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণের ফলে প্রচুর পরিমাণে তীব্র বিকিরণ, চার্জযুক্ত কণা এবং শক্তিশালী তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই শক্তি যখন পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তখন তা সরাসরি প্রভাব ফেলে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপর।
কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?
বিজ্ঞানীদের মতে, একসঙ্গে এত সংখ্যক সোলার ফ্লেয়ার দেখা যাওয়া অত্যন্ত বিরল। সূর্যের নির্দিষ্ট একটি ‘সানস্পট’ বা কালো দাগযুক্ত অঞ্চল বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে চৌম্বকীয় টানাপোড়েন এতটাই বেড়েছে যে, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ফ্লেয়ার তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তৈরি হতে পারে জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে?
এই সৌর বিস্ফোরণের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন—
স্যাটেলাইট যোগাযোগ: টিভি সম্প্রচার, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে
জিপিএস ও নেভিগেশন সিস্টেম: বিমানের রুট নির্দেশনা ও সমুদ্রপথের নেভিগেশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: কিছু দেশে বিদ্যুৎ গ্রিডে অস্থায়ী সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
মহাকাশ মিশন: কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট ও মহাকাশযান বাড়তি বিকিরণের মুখে পড়তে পারে
মানুষের জন্য কি কোনও ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনই তৈরি হয়নি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের এই ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে অনেকটাই রক্ষা করে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে পরোক্ষ সমস্যার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন সূর্যের এই সক্রিয়তা আরও বাড়তে পারে। তাই স্যাটেলাইট পরিচালন সংস্থা ও বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলি।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
বর্তমানে সূর্য তার শক্তিশালী পর্যায় বা ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’-এর দিকে এগোচ্ছে। এই সময়ে এমন সৌর বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ে বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ফলে আগামী দিনে আরও সোলার ফ্লেয়ার দেখা যেতে পারে, যদিও প্রতিটি ঘটনাই যে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা নয়।
তবুও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পৃথিবীর জন্য এই ধরনের মহাকাশীয় পরিবর্তন যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে একমত বিশেষজ্ঞ মহল।