ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ, গভীর রাতে আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন মানুষ দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্

শিলিগুড়ি: গভীর রাতে আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ একাধিক জেলায় একযোগে কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ঘুমন্ত অবস্থায় আচমকা ঘরবাড়ি কেঁপে উঠতেই অনেকেই প্রাণভয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১টার পর আচমকাই কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও কম্পনের তীব্রতা ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের একাধিক এলাকায় জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে।

রিখটার স্কেলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প

ন্যাশনাল সিসমোলজি সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে প্রায় ৪.৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি গভীরতায় হওয়ায় এর প্রভাব উত্তরবঙ্গ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর ভূমিকম্প হওয়ার কারণেই কম সময়ের মধ্যেই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। যদিও মাত্রা মাঝারি হওয়ায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো মেলেনি।

পর্যটন এলাকায় আতঙ্ক

ভূমিকম্পের সময় দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির বিভিন্ন হোটেলে থাকা পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায়। অনেক পর্যটক গভীর রাতেই হোটেল থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়।

শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া ও ফাঁসিদেওয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কম্পনের সময় কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। যেকোনও জরুরি অবস্থার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা উত্তরবঙ্গ

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবেই পরিচিত। হিমালয় অঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণে এখানে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অতীতেও একাধিকবার এই অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ ও সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বস্তি ফিরছে ধীরে ধীরে

ভূমিকম্পের পর কিছু সময় আতঙ্ক থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে গভীর রাতের এই প্রাকৃতিক ঘটনায় উত্তরবঙ্গবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these