কলকাতা:
বিশ্ব ক্রিকেটে ফের একবার নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করল ভারত। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারতের যুব দল। এই জয়ের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক ট্রফি জয়ের রেকর্ড আরও মজবুত করল টিম ইন্ডিয়া।
ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় জিম্বাবোয়ের হারারে স্টেডিয়ামে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে নামেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার—সব বিভাগেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং।
বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ইনিংস
ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি খেলেন এক অনবদ্য ও স্মরণীয় ইনিংস। মাত্র অল্প কয়েকটি বলেই শতরান পূর্ণ করে প্রতিপক্ষ বোলারদের কার্যত চাপে ফেলে দেন তিনি। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারত পৌঁছে যায় পাহাড়সম স্কোরে।
বৈভবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন দলের অন্যান্য ব্যাটাররাও। নির্ভার ব্যাটিং, সঠিক শট নির্বাচন এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলে পারফর্ম করার মানসিকতা—সব মিলিয়ে ভারতের ইনিংস ছিল প্রায় নিখুঁত।
নির্ধারিত ওভার শেষে ভারত তোলে চারশোর কাছাকাছি রান, যা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্কোর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে চাপে ইংল্যান্ড
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা ভালো করলেও ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে ধীরে ধীরে ছন্দ হারায় তারা। মাঝের ওভারে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে আসে।
ভারতের পেস ও স্পিন আক্রমণ একসঙ্গে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপে চাপ সৃষ্টি করে। এক ইংরেজ ব্যাটারের লড়াকু ইনিংস ছাড়া বড় কোনও জুটি গড়ে উঠতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারের আগেই ইংল্যান্ডের ইনিংস থেমে যায়, আর ভারত নিশ্চিত করে বিশাল ব্যবধানে জয়।
নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্কে সাফল্য
এই বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল দলের মধ্যে দুর্দান্ত সমন্বয়। অধিনায়কের নেতৃত্বে প্রতিটি ম্যাচে পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলেছে ভারত। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখা গেছে।
টুর্নামেন্ট জুড়ে অপরাজিত থেকে ফাইনাল জয় ভারতের যুব ক্রিকেটের শক্ত ভিতেরই প্রমাণ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দল থেকেই আগামী দিনে জাতীয় দলের জন্য একাধিক তারকা উঠে আসতে পারেন।
দেশজুড়ে আনন্দের আবহ
ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়। ক্রিকেট মহলের বহু প্রাক্তন তারকা থেকে শুরু করে ক্রীড়াপ্রেমীরা এই তরুণ দলটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হল—বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ ট্রফি শুধু একটি সাফল্য নয়, বরং আগামী দিনের ভারতীয় ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।