দেশের অন্যতম জনপ্রিয় হস্তশিল্প মেলা হিসেবে পরিচিত হরিয়ানার সূর্যকুণ্ড মেলায় শনিবার রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মেলার মাঠে থাকা একটি বড় আকৃতির বিনোদনমূলক দোলনা আচমকাই ভেঙে পড়ে, যার জেরে প্রাণ হারান এক পুলিশ আধিকারিক এবং আহত হন বহু মানুষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার রাতে মেলায় উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই ‘সুনামি’ নামে পরিচিত একটি দোলনায় আনন্দ উপভোগ করছিলেন দর্শনার্থীরা। হঠাৎই বিকট শব্দে দোলনার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দোলনায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকেই ছিটকে পড়েন মাটিতে, কেউ আবার দোলনার কাঠামোর নীচে চাপা পড়েন।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক পুলিশ ইনস্পেক্টরের। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও অন্তত এক ডজন মানুষকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেলার মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশ ঘিরে ফেলা হয় এবং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিনোদনমূলক রাইডগুলি।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, দোলনার যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পুলিশ আধিকারিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, সূর্যকুণ্ড মেলা প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। এই মেলায় নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক রাইডের মান নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। এবারের এই দুর্ঘটনা ফের একবার বড় মেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ নজরদারি ও নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দিল।
গোটা ঘটনায় শোকস্তব্ধ মেলার পরিবেশ। প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।