কলকাতা:
জ্যোতিষশাস্ত্রে আবারও এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রহযোগ ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। সূর্য ও বুধের যুগল অবস্থানে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী বুধাদিত্য যোগ—যাকে অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ক যোগ হিসেবে ধরা হয়। জ্যোতিষবিদদের মতে, এই যোগের প্রভাবে আগামী সময়ে পাঁচটি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে অর্থভাগ্য, কর্মজীবন এবং সামাজিক সম্মান বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতা ও নেতৃত্বের প্রতীক, আর বুধ বুদ্ধি, বাণিজ্য, হিসাব-নিকাশ ও যোগাযোগের কারক। এই দুই গ্রহ একত্রিত হলে যে যোগ তৈরি হয়, সেটিই বুধাদিত্য যোগ। এই যোগ যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে বা চলমান গ্রহগতিতে সক্রিয় হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে পাঁচটি নির্দিষ্ট রাশির জাতক-জাতিকারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব, পদোন্নতি বা সম্মানজনক সুযোগ আসতে পারে। ব্যবসায়ীদের জন্য এই সময় লাভজনক চুক্তি, নতুন ক্লায়েন্ট বা আর্থিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যারা চাকরির খোঁজে রয়েছেন, তাঁদের জন্যও সুখবর আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই যোগকে অত্যন্ত শুভ বলা হচ্ছে। হঠাৎ আর্থিক লাভ, আটকে থাকা টাকা ফেরত পাওয়া কিংবা সঞ্চয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কাটিয়ে স্বস্তির সময় আসতে পারে বলে জ্যোতিষবিদদের ধারণা।
শুধু অর্থ বা কাজ নয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আত্মবিশ্বাস বাড়ার ফলে মানুষ নিজের মত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় থাকবে।
তবে জ্যোতিষশাস্ত্র মনে করিয়ে দেয়, গ্রহযোগ যতই শুভ হোক না কেন, ব্যক্তিগত কর্মফল ও সিদ্ধান্তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সুযোগ আসলেও তা কাজে লাগাতে সচেতনতা ও পরিশ্রম জরুরি।
সব মিলিয়ে, বুধাদিত্য যোগকে কেন্দ্র করে জ্যোতিষ মহলে আশাবাদের সুর। অনেকের জীবনে এই যোগ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে—এখন দেখার বিষয়, কার ভাগ্যে কতটা উজ্জ্বলতা আসে।