ব্যারাকপুর:
উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের লাথির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধের। মৃত ব্যক্তির বয়স প্রায় ৮০ বছরের কাছাকাছি। ঘটনার পরই অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং দলীয় স্তর থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধের পরিবারের সঙ্গে এলাকার একটি নির্মাণকাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই নির্মাণ কাজটি বেআইনি এবং তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছিল। সেই অভিযোগ ঘিরেই শুক্রবার এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে বাড়ির সামনে হাজির হন। এই সময় প্রথমে মৃত বৃদ্ধের ছেলের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃদ্ধ নিজে বাইরে এলে কথাকাটাকাটি আরও তীব্র হয়। অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলর হঠাৎ করেই বৃদ্ধকে লাথি মারেন। আঘাতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।
স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃদ্ধের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের পথে চলবে এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে দল কোনওভাবেই যুক্ত থাকতে পারে না।
এদিকে, মৃত বৃদ্ধের পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশও ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। ঘটনার জেরে ব্যারাকপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।