ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘ আন্দোলনের আবহ কাটিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনায় বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি দেশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গোটা দেশজুড়ে চলছে ভোট, আর এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-বিদেশের নজর এখন ঢাকার দিকে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন চোখে পড়েছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শাসনের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রধান লড়াইয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ও জামায়াত-এ-ইসলামি সহ তাদের জোটসঙ্গীরা। বিভিন্ন আসনে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবিও দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের অবসানের পর গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন কম ছিল না। ছাত্র-যুব আন্দোলন, বিরোধী দলের বিক্ষোভ, প্রশাসনিক পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেই এই নির্বাচনের আয়োজন। ফলে ভোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনতে পারে।
ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, তারা স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন চান। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ স্বচ্ছ প্রশাসন ও কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে রেখে ভোট দিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন, কৃষি ও মূল্যবৃদ্ধি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, শহরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনীতি, বেকারত্ব ও নাগরিক স্বাধীনতা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক মহলও এই নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রাখছে, কারণ এর ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলাফল যাই হোক না কেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনা-পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচন দেশের মানুষের সামনে নতুন দিশা খুলে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার, ব্যালটবক্সে কী বার্তা দেন বাংলাদেশের জনগণ। ভোটের ফলাফলই জানিয়ে দেবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং কোন পথে এগোবে বাংলাদেশ।