ঐতিহাসিক জয়ের পরও বিজয় মিছিল নয়, সংযমের বার্তা বিএনপি শিবিরে

শিরোনাম:
ঐতিহাসিক জয়ের পরও বিজয় মিছিল নয়, সংযমের বার্তা বিএনপি শিবিরে

নিজস্ব প্রতিনিধি, সেনিউজ বাংলা:

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত মিলতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগণনার প্রাথমিক ফলাফলে বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে জয়ের আবহে যখন সাধারণত উল্লাসে ফেটে পড়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা, ঠিক সেই সময়েই এসেছে এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা—বিজয় মিছিল বা প্রকাশ্য উচ্ছ্বাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও ধরনের বিজয় মিছিল, শোভাযাত্রা বা শক্তিপ্রদর্শন না করা হয়। নেতৃত্বের বার্তা, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য।” এই নির্দেশের পরেই বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়গুলিতে কর্মীদের সংযত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তবে কেন্দ্রীয় বার্তার পর অনেক জায়গাতেই সেই উচ্ছ্বাস সীমিত রাখা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে কোনও ধরনের উদযাপন সমীচীন নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দল সংযম ও দায়িত্বশীলতার বার্তা দিতে চাইছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বড় আকারের জমায়েত এড়িয়ে চলা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলেই মত তাঁদের।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আসনে ভোটগণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পরেই পরিষ্কার হবে নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ ও কূটনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—সব জায়গাতেই এখন ফলাফলের দিকে নজর। সাধারণ মানুষও অপেক্ষায় রয়েছেন স্থিতিশীল ও কার্যকর প্রশাসনের প্রত্যাশায়। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনও উসকানি বা উত্তেজনায় পরিস্থিতি অশান্ত না হয়।

সব মিলিয়ে, জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হলেও বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা দিয়েছে। সংযম, শান্তি ও গণতান্ত্রিক শালীনতার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের পথচলা শুরু করতে চায় দল—এমনই ইঙ্গিত মিলছে নেতৃত্বের বক্তব্যে।

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পূর্ণ চিত্র। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সেনিউজ বাংলা।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these