শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানে নতুন দিশা: শুরু হচ্ছে ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্প | Website Link

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উদ্যোগে শুরু হচ্ছে বিশেষ প্রকল্প ‘বাংলার যুবসাথী’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধানসভাভিত্তিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। এই ক্যাম্পগুলিতে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে এবং প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নথি যাচাই ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষিত যুবসমাজকে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাঁদের দক্ষতাকে সঠিক পথে ব্যবহার করা।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আবেদনপত্র পূরণ করে ক্যাম্পে জমা দিতে হবে। নমুনা আবেদনপত্র ক্যাম্প থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট www.wbsportsandyouth.gov.in
থেকেও আবেদনপত্র ডাউনলোড করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার প্রার্থীরাও সহজে আবেদন করতে পারেন।

‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তর। দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ক্যাম্প বসানো হবে, যাতে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা নিজেদের এলাকাতেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। এর ফলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ভ্রমণ বা খরচের চাপ কমবে।

সরকারি মহলের মতে, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এই প্রকল্প বহু শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ক্যাম্প চলাকালীন প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য, যোগ্যতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। আবেদনকারীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর। ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these