উত্তরপ্রদেশে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিবাহিত জীবন ছেড়ে নতুন পরিচয়ে নতুন সংসার গড়ার চেষ্টা করেছিলেন এক মহিলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আধার সংক্রান্ত একটি OTP-ই ফাঁস করে দিল তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা। প্রযুক্তির এই সূত্র ধরেই সামনে আসে ঘটনার আসল চিত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে হঠাৎ করেই বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যান ওই বিবাহিতা। পরিবার প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও কোনও হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই মহিলা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন এবং অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে আধার সংক্রান্ত একটি ডিজিটাল লেনদেনকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, নতুন জায়গায় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে আধার ভেরিফিকেশনের জন্য মোবাইলে একটি OTP আসে। সেই নম্বরটি পুরনো পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে এবং বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তকারীরা ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মহিলার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
পুলিশের দাবি, নতুন করে বিবাহ বা পরিচয় বদলের প্রক্রিয়ায় আধার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করার সময়ই ভুল করেন ওই মহিলা। OTP ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া তাঁর আগের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এরপরই পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে তাঁকে খুঁজে পায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা জানান, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। সেই কারণেই তিনি নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পরিবার সূত্রে অন্য দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁরা চরম মানসিক চাপে পড়েন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোথাও গেলে তা ফৌজদারি অপরাধ নয়, তবে বিবাহিত অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে নতুন বিবাহ করলে তা জটিল আইনি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি আধার বা অন্য সরকারি নথি ব্যবহার করে পরিচয় গোপন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তা আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
এই ঘটনায় আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে—ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত? আধার ভিত্তিক OTP ব্যবস্থা মূলত নিরাপত্তার জন্যই তৈরি। কিন্তু একই সঙ্গে তা ব্যবহারকারীর পরিচয় ও অবস্থান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা গোপনীয়তা রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় প্রযুক্তিই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সাক্ষী।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিলাকে নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশের এই ঘটনা একদিকে যেমন পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের চিত্র তুলে ধরছে, তেমনি অন্যদিকে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার বাস্তব প্রভাবও সামনে আনছে। নতুন জীবন শুরুর চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির হাতেই ধরা পড়লেন ওই মহিলা—এই ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।