শিরোনাম: সুস্থ জীবনযাপনের চাবিকাঠি লুকিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

কলকাতা: আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে স্বাস্থ্যকে প্রায়শই অবহেলা করা হয়। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ফাস্ট ফুডের বাড়তি ঝোঁক এবং তেল-মশলাদার খাবারের প্রতি আকর্ষণ ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে। সম্প্রতি একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে, যা প্রকাশিত হয়েছে ABP Live Bengali-এ, বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—সুস্থ থাকতে গেলে প্রথমেই বদল আনতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের মূল ভিত্তি হল নিয়ন্ত্রিত ও সুষম খাদ্য। অনেকেই ভাবেন মাঝে মাঝে ভাজাভুজি বা ফাস্ট ফুড খেলে বড় ক্ষতি হয় না। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ঝাল-মশলাদার এবং রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর খাবার দীর্ঘমেয়াদে হজমের গোলযোগ, ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। আঁশযুক্ত খাবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জল শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা রাতের দিকে ভারী খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত খাবার গ্রহণ করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সঠিকভাবে কাজ করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয়।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সফট ড্রিঙ্ক, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার ধীরে ধীরে শরীরে চর্বি জমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সুস্থ জীবনযাপন মানে কড়া ডায়েট নয়; বরং সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলাই আসল চাবিকাঠি। প্রতিদিন সামান্য পরিবর্তন—যেমন বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়া, নিয়মিত ফল খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল এড়ানো—দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।
সর্বোপরি, সুস্থ শরীরই সুস্থ মনের ভিত্তি। তাই ব্যস্ততার মাঝেও খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করলে ভবিষ্যতে বড় অসুখের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these