স্পোর্টস ডেস্ক: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আর টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই উত্তাপ যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানকে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে পরাস্ত করল ভারত। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া।
টস জিতে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা যদিও ভারতের পক্ষে ভালো হয়নি। ওপেনার দ্রুত আউট হয়ে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে সেখান থেকেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ইশান কিষাণ।
ইশানের ঝড়ো ইনিংস
মধ্যক্রমে নেমে ইশান কিষাণ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট চালাতে শুরু করেন। বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো তাঁর ইনিংস ভারতকে শক্ত ভিত দেয়। ৪০ বলের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি ৭৭ রান করেন। অন্য ব্যাটাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৭৫/৭—যা টি-২০ ম্যাচের প্রেক্ষিতে লড়াই করার মতো স্কোর।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে পড়া
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাই ছিল ধাক্কাধাক্কির। ভারতের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মাঝেমধ্যে এক-দু’জন ব্যাটার প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান ইনিংস।
বোলারদের সাফল্য
ভারতের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বল করে চাপ তৈরি করেন। পাওয়ার প্লে থেকেই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেন তাঁরা। স্পিনারদের টার্ন এবং পেসারদের গতি—দুই মিলিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।
সুপার এইটে জায়গা পাকা
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হলো। বড় ব্যবধানে জেতায় নেট রান রেটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সুপার এইট পর্বে যাওয়ার রাস্তা কার্যত মসৃণ করে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আবেগের লড়াই। ম্যাচ জয়ের পর দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায় ভারতীয় ক্রিকেটারদের উদ্দেশে।
সব মিলিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে এই জয় শুধু দু’পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তাও দিল ভারতীয় শিবিরকে। সামনে আরও কঠিন লড়াই থাকলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয় নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টে ভারতের শক্ত অবস্থানকে প্রমাণ করল।