একদিকে বেকার যুবকদের আন্দোলন, অন্যদিকে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা

১৬ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে একাধিক ইস্যুতে। একদিকে বেকার যুবকদের আন্দোলন, অন্যদিকে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা—সব মিলিয়ে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।

যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে জোর চর্চা

রাজ্য সরকার ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই প্রকল্পে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সহায়তা মিলবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হবে। আগে আগস্টে চালু করার কথা থাকলেও তা এগিয়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় শিবির করে ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী এই প্রকল্পে আবেদন জানাচ্ছেন।

তবে অনেক আবেদনকারীর বক্তব্য, সাময়িক আর্থিক সহায়তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। তাঁদের দাবি, প্রকৃত প্রয়োজন স্থায়ী চাকরি। বহু ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন

এদিকে আপার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কলকাতায় অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন বহু প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ জানান, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত ও আইনি জটিলতার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত মেধা তালিকা প্রকাশ ও নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি তোলেন তাঁরা।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বিতর্ক

নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে কয়েকজন এইআরও (AERO) পদাধিকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবর সামনে এসেছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, অনিয়ম রুখতেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল।

বিরোধীদের আক্রমণ

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে কটাক্ষ করে বলেন, এটি মূলত ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার উদ্যোগ। তাঁর দাবি, প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে ভাতার মাধ্যমে সমস্যাকে ঢাকার চেষ্টা চলছে।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর সম্ভাব্য বঙ্গ সফর এবং প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সভা ঘিরেও রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে দুর্নীতি ও বেকারত্ব ইস্যুতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শাসকদলের পাল্টা বার্তা

শাসকদলের দাবি, রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করছে। ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে তারা শিক্ষিত বেকারদের জন্য অন্তর্বর্তী সহায়তা হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি শিল্প বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থানের দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। বেকারত্ব, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—এই তিনটি ইস্যুই আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সব মিলিয়ে, ‘যুব সাথী’ প্রকল্প একদিকে যেমন বহু বেকার যুবকের কাছে স্বস্তির বার্তা, অন্যদিকে তেমনই তা ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক। চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন দেখার, সরকার ও বিরোধীদের এই টানাপোড়েনের মধ্যে সাধারণ বেকার যুবকদের সমস্যার বাস্তব সমাধান কত দ্রুত সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these