পশ্চিমবঙ্গে রেবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী Kolkata-র বেলেঘাটা এলাকার Beleghata ID Hospital-এ টিকা নিতে উপচে পড়া ভিড়ের ছবি সামনে আসতেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, একাধিক জেলা ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের শহরে ছুটে আসতে হচ্ছে।
টিকার খোঁজে দীর্ঘ লাইন
হাসপাতাল সূত্রে খবর, কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ের পর জরুরি ভিত্তিতে রেবিস টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হলেও বহু রোগী নির্ধারিত সময়ে ডোজ পাচ্ছেন না। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভোর থেকে লম্বা লাইন পড়ছে। অনেকেই দাবি করছেন, টিকা মজুত সীমিত থাকায় সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের।
কেন এই সংকট?
স্বাস্থ্য দফতরের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় কুকুরের কামড়ের ঘটনা বেড়েছে। সেই তুলনায় টিকার সরবরাহ চাহিদা মেটাতে পারছে না। গ্রামীণ হাসপাতাল ও ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের বড় সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। এর জেরেই শহরের সংক্রামক রোগ হাসপাতালগুলিতে চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেবিস একবার উপসর্গ দেখা দিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই প্রাণীর কামড়ের পর অবিলম্বে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের কথায়, “ডোজ মিস করা বা দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে।”
রোগী ও পরিবারের অভিযোগ
টিকা নিতে আসা বহু মানুষের অভিযোগ, স্পষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। কখন টিকা পাওয়া যাবে, কত ডোজ উপলব্ধ—এসব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ নেওয়ার পর পরবর্তী ডোজের সময় ঘনিয়ে এলেও টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা স্তরে মজুতের হিসেব নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নিয়মিত স্টক মনিটরিং, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কর্মসূচি—এই তিনটি দিকেই জোর দেওয়া জরুরি।
জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ
রেবিস প্রতিরোধযোগ্য হলেও সময়মতো টিকা না পেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই এই সংকট জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, রেবিস ভ্যাকসিনের ঘাটতি রাজ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এখন নজর প্রশাসনের তৎপরতার উপর—কত দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা যায়, সেটাই দেখার।