ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর দলের দুই তারকা ক্রিকেটার Babar Azam ও Shaheen Shah Afridi-র দলে জায়গা নিয়েই শুরু হয়

ভারত–পাকিস্তান মহারণের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে তোলপাড় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ICC Men’s T20 World Cup-এর গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর দলের দুই তারকা ক্রিকেটার Babar Azam ও Shaheen Shah Afridi-র দলে জায়গা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক—অনেকেই সরব হয়েছেন তাঁদের পারফরম্যান্স নিয়ে।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট

টুর্নামেন্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পিছিয়ে পড়ে তারা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের টপ অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়ে। দলের ভরসা বাবর আজম খুব কম রান করে ফিরলে চাপে পড়ে যায় গোটা ব্যাটিং লাইন-আপ। অন্যদিকে বল হাতে শাহিন শাহ আফ্রিদিও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি; পাওয়ারপ্লেতে উইকেট এনে দেওয়ার বদলে রান খরচ বেড়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

এই হারের ফলে গ্রুপে পাকিস্তানের অবস্থান জটিল হয়ে পড়েছে। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাকি ম্যাচগুলোয় বড় ব্যবধানে জয় দরকার—এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

প্রাক্তনদের কড়া সমালোচনা

পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক Shahid Afridi প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে বড় মঞ্চে ধারাবাহিক ব্যর্থতার জবাবদিহি হওয়া উচিত। তাঁর মতে, “দলের স্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রয়োজনে সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও বাইরে বসাতে হবে।” যদিও সরাসরি নাম না বললেও পরবর্তীতে আলোচনায় উঠে আসে বাবর ও শাহিনের প্রসঙ্গ।

আরও এক প্রাক্তন পেসার Shoaib Akhtar মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বড় ম্যাচে ম্যাচ-জেতানো পারফরম্যান্সই একজন তারকার আসল পরিচয়। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানকে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে।

বাবরের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন

বাবর আজম দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর গড় ও সাফল্য নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্ট্রাইক রেট ও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলার প্রয়োজন, আর সেখানে বাবরের ধীরগতির ইনিংস দলকে চাপে ফেলছে।

তবে বাবরের সমর্থকরা বলছেন, এক-দু’টি ম্যাচ দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের মান বিচার করা ঠিক নয়। বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক, আর চাপের মুহূর্তে তিনিই দলকে ভরসা দিতে পারেন।

শাহিনের পারফরম্যান্সে ওঠানামা

শাহিন শাহ আফ্রিদি পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। নতুন বলে সুইং ও গতির জোরে তিনি বহু ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় ম্যাচে তাঁর বোলিং আগের মতো ধারালো নয় বলে মত বিশ্লেষকদের। লাইন-লেন্থে অনিয়ম, ডেথ ওভারে অতিরিক্ত রান খরচ—এসবই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তবে দলের ভেতরের সূত্র বলছে, চোটের পর পুরো ছন্দে ফিরতে সময় লাগছে শাহিনের। টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও তাঁর ওপর আস্থা রাখছে বলেই খবর।

দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা?

ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট বৈঠকে বসেছে বলে জানা গেছে। কিছু মিডিয়া রিপোর্টে দাবি, পরের ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার একই সঙ্গে এটাও সত্যি যে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একাংশ সমর্থক বাবর-শাহিনকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, “ফর্ম সাময়িক, ক্লাস স্থায়ী।” অন্যদিকে আরেক অংশের দাবি, নতুন মুখদের সুযোগ না দিলে পাকিস্তান ক্রিকেট এগোবে না।

সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল শুধু পয়েন্ট টেবিলেই প্রভাব ফেলেনি, নাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও। আগামী ম্যাচে দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। বাবর আজম ও শাহিন শাহ আফ্রিদি কি সমালোচনার জবাব ব্যাট-বলে দেবেন, নাকি দল দেখবে নতুন সমীকরণ—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these