ইন্দোর: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এমবিএ পড়ুয়া এক তরুণীর খুনের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অভিযুক্ত প্রেমিকের আচরণ। গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাঁর নির্বিকার হাসি এবং রহস্যময় মন্তব্যে স্তম্ভিত তদন্তকারী থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণী ইন্দোরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমবিএ-র ছাত্রী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দু’জনের মধ্যে বিয়ে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রায়ই মতবিরোধ তৈরি হতো। সেই টানাপোড়েনই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায় বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
গত সপ্তাহে শহরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। প্রতিবেশীরা ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পুলিশ তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধার করে। গলায় দাগ থাকায় প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিল। মোবাইলের লোকেশন ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। অবশেষে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ইন্দোরে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকরা খুনের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে হেসে বলে, “যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে।” আরও প্রশ্ন করলে সে জানায়, “সময় এলে সব বলব।” এমন নির্বিকার আচরণে হতবাক উপস্থিত সকলেই। এই মনোভাবই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, খুনের আগে ও পরে অভিযুক্তের আচরণে কোনও পরিকল্পনার ইঙ্গিত ছিল কি না। তার মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট, কল রেকর্ড—সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের প্রকৃতি এবং সাম্প্রতিক কোনও বিবাদ ছিল কি না, তাও খোঁজা হচ্ছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করা হবে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।” ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে কখনও কখনও ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ, সন্দেহ এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং—এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ইন্দোরের এই নৃশংস খুনের ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। শহরজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহের মধ্যেই সকলের নজর এখন আদালতের রায়ের দিকে।